ঘাড়ে ব্যথা/Neck Pain

Neckpain বা ঘাড়ে ব্যাথা বর্তমান সময়ে খুব একটি পরিচিত সমস্যা। বর্তমান স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পরিসংখ্যান করেছেন তিন জন মানুষের মধ্যে অন্তত একজনের ঘাড়ে ব্যাথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ঘাড় ব্যাথা খুব কমন সমস্যা সাধারণত জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তাদের জীবনে কিছু সময়ে ঘাড় ব্যথা ভোগ করে। ঘাড় ব্যাথার লক্ষণ গুলো খুব নিখুঁত এবং পুনরায় ফিরে আসে ।

Neck Pain বা ঘাড়ব্যাথার কারন গুলো?

১. ঘাড়ের মাসেল দুর্বল এবং ঘাড়ের মাসেলের অতিরিক্ত ব্যাবহার : অনেক দীর্ঘ সময় জন্য একটি ডেস্ক এ বসা, সঠিক পজিশন মেইন টেইন না করে অনেকক্ষণ যাবত মোবাইল, কম্পিউটার ব্যাবহার করা, এবং সঠিক পজিশনে না ঘুমালে।

২. স্পাইনাল ডিস্ক পরিবর্তন বা বের হয়ে গেলে : স্পাইনাল ডিস্কগুলি যদি ভঙ্গুর এবং কম স্থিতিস্থাপক হয়ে যায়, তাই এটি কার্যকরভাবে চাপ চাপিয়ে দিতে পারে না। কখনও কখনও মেরুদন্ডে ডিস্ক টিস্যু বের হয়ে যায়, তখন খুব ব্যাথা হয় এবং এইব্যাথা হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে পারে।

৩. দুই মেরুদন্ডের মধ্যবর্তী জায়গা কমে গেলে : দুই মেরুদন্ডের মধ্যবর্তী জায়গা কমে গেলে, অথবা যদি দুই মেরুদণ্ডের মধ্যবর্তী স্নায়ুতন্ত্রের
চাপের কারণে ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে যা কাঁধে বা পর্যন্ত যেতে পারে।

৪. Whiplash Injury : হুইপ্লাশ হল এমন একটি আঘাত যা হয়ত কেউ যদি আপনার পিছনে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় চালিত হয়। সংঘর্ষের ফলে সার্ভিকাল মেরুদণ্ড, পেশী এবং অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৫. Wear and tear of the joints in the cervical spine : অনেক সময় মেরুদণ্ডের মধ্যে ফাঁক সঙ্কুচিত হতে পারে এবং ছোট হাড় বৃদ্ধি (spurs) তাদের প্রান্ত বরাবর গঠন করতে পারে, সাধারণত এই অবস্থাকে osteochondrosis বলা হয়। ঘাড় vertebrae মধ্যে জয়েন্টগুলোতে অস্টিওআর্থারাইটিস সার্ভিকাল স্পন্ডালোসিস বলা হয়। ক্রমবর্ধমান বয়স বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক অংশ, এটিও ঘাড় ব্যথার অনতম কারণ।

ঘাড়ব্যাথার লক্ষণগুলো :

ঘাড় ব্যথা বিভিন্ন ধরণের আছে। ক্রনিক ঘাড় ব্যথা একটি গুরুতর অবস্থা বা একটি জরুরী অবস্থার একটি চিহ্ন। নিম্নলিখিত অবস্থার মধ্যে যদি আপনার ঘাড় ব্যথা থাকে বা নিম্নলিখিত উপসর্গগুলির সাথে একত্রে জরুরি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:-

১. ঘাড়ে ব্যথা অবশ্যই থাকবে এবং ঘাড় থেকে বাহু, এবং কি আঙ্গুল পর্যন্ত
ব্যথা যেতে পারে।

২. যে হাতে ব্যথা যায় সেই হাত অবশ অবশ লাগতে পারে।

৩. হাতে ঝিম ঝিম ভাব হতে পারে।

৪. ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যেতে পারে এবং নড়াচড়ায় ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে।

৫. অস্থিরতা বিরাজ করবে।
,

ঘাড় ব্যথার জন্য দায়ি কিছু মেডিকেল কন্ডিশন :

১. Whiplash Injury (সামনের বা পেছনের দিকে হঠাৎ পরে গিয়ে দুর্ঘটনা)

২. Cervical Spondylosis (বয়স জনিত কারণে সারভাইকেল মেরুদণ্ড ক্ষয়)

৩. Tension Headaches (অতিরিক্ত টেনশন এ মাথা ব্যাথা)

৪. Wry Neck (Torticollis) (এক দিকে ঘাড় বাকা)

৫. Ankylosing Spondylitis ( HLA B-27 উপস্তিতির কারণে এক ধরণের আরথ্রাইটিস)

৬. Polymyalgia Rheumatica ( Polymyalgia রিউমাটিকা একটি প্রদাহজনক ব্যাধি
যা শরীরের বিভিন্ন অংশে পেশী ব্যথা এবং শক্ততার কারণ। এটি সর্বাধিকভাবে
প্রভাবিত করে: কাঁধ ঘাড়)

৭. Brain Aneurysm (ব্লাড ভেসেল নডিউল উপস্তিতিতে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে বাঁধা)

৯. Spinal Stenosis morrhage ( subarachnoid স্পেস মধ্যে রক্তক্ষরণ হয়)

৯. Spinal Stenosis ( মেরুদণ্ডের মধ্যে স্পেসগুলির সংকীর্ণতা )

১০. Slipped (Herniated) Disk ( ডিস্ক বের হয়ে যাওয়া )

১১. Paget’s Disease of the Bone

১২. Polio

১৩. Thoracic Outlet Syndromes

১৪. Subacute Thyroiditis

১৫. Brain Abscess

১৬. Fibromyalgia

১৭. Cervical Rib

ঘাড় ব্যাথায় চিকিৎসা : ঘাড় ব্যাথায় সাধারণত তিন ধরণের চিকিৎসা হয়।

১. Conservative Treatment অথবা ফিজিওথেরাপি।

২. Medication/ঔষধ।

৩. Surgery

Conservative Treatment অথবা ফিজিওথেরাপি :

১. Soft Tissue Manipulation/Relive
২. Cervical Spine Mobilization
৩. Cervical Spine Manipulation
৪. Neck Muscle Stretching
৫. Neck Muscle Strengthening Exercise
৬. Cervical Spine Traction ( Manualy/Mechanicaly)
৭. SNAGS Exercise
৮. NAGS Exercise
৯. Re-traction
১০. Hot Compression ( Deep/ Superficial )
১১. অন্যান্য

Medication :

১ Analgesics such as acetaminophen or NSAIDs
২ Muscle relaxants
৩ Sedative Drugs
৪ অন্যান্য

Surgery :

Surgery is usually not indicated for “pinched nerves” or herniated discs unless there is spinal cord compression or pain and disability have been protracted for many months and refractory to conservative treatment such as physical therapy.

ঘাড় ব্যাথার রোগীদের জন্য কিছু করনীয় :

১. রাতে ঘুমানোর সময় বালিশ এ মাথা রেখে ঘুমাবেন, বালিশ উচ্চতা এমন ভাবে রাখবেন যাতে বেশি উঁচু না হয় এবং সেটা শরীরের সমন্তরাল থাকে।

২. ড্রাইভিং এর সময় সতর্ক থাকুন যাতে মাথা বেশি সামনের দিকে না ঝুঁকে।

৩. মোবাইল, কম্পিউটার ব্যাবহারে দীর্ঘ সময় পরিহার করুন এবং মোবাইল কম্পিউটার ব্যাবহারে সতর্ক থাকুন যাতে ঘাড় সামনের দিকে বেশি না ঝুঁকে।

৪. অতিরিক্ত নরম বিছানা পরিহার করুন।

ধন্যবাদান্তে,
ডাঃ বিবেকানন্দ সরকার (পিটি)
ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট,
ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, উত্তরা,ঢাকা।