আজকের দিনে অফিস বা ঘরের কাজে ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের সামনে টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থাকা আমাদের রুটিন হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ করে যখন চেয়ার থেকে উঠতে যান, তখন কি কোমরের নিচের দিকে অসহ্য ব্যথা বা অবশ ভাব অনুভব করেন? যদি আপনার সাথে এমনটা ঘটে, তবে একা শুধু আপনি নন। বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে এই সমস্যা যেন প্রায় সবার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আজ ৫ টি কোমর ব্যথা কমানোর সহজ উপায়
আমাদের উত্তরায় অবস্থিত Vision Physiotherapy Center এ প্রতিদিন এমন অনেক পেশাজীবী আসেন, যারা এসে প্রথমেই বলেন, “স্যার, বেশিক্ষণ বসে থাকলেই কোমরটা যেন জ্যাম হয়ে যায়, সোজা হতে পারি না।” ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আজ আপনার সাথে এই সমস্যা নিয়ে খুব সহজভাবে আলোচনা করবো। কোমর ব্যথা মানেই যে বড় কোনো রোগ, তা কিন্তু নয়। এটি মূলত আপনার শরীরের একটি সতর্কবার্তা, যা বোঝাতে চাইছে যে আপনার মেরুদণ্ড এখন চাপের মুখে আছে।
কিন্তু কাজ তো আর ফেলে রাখা যায় না! তাহলে উপায় কী? খুব সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলা, জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে আপনি এই ব্যথা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারেন। আজ আমরা সহজভাবে জানব কীভাবে এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবেন।
কোমর টান লাগলে কি কি করলে উপকার পাবেন তা আমাদের এই পোস্ট থেকে পড়ে নিন।

কেন দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে কোমর ব্যথা হয়? (ব্যথার আসল রহস্য)
আমাদের শরীর কিন্তু সারাদিন চেয়ারে বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। আদিমকাল থেকেই মানুষের শরীর তৈরি হয়েছে নড়াচড়া, হাঁটা বা দৌড়ানোর জন্য। যখন আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একভাবে বসে থাকি, তখন শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। আসুন, ব্যথার মূল কারণগুলো সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।
ভুল বসার ভঙ্গি ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি
আমাদের ক্লিনিকে আসা রোগীরা প্রায়ই একটি সাধারণ ভুল করেন—বসার সময় অজান্তেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া, পিঠ কুঁজো করে রাখা অথবা চেয়ারে আয়েশ করে স্লাইড করে বসা। একে আমরা বলি ‘Slouched Posture’।
আপনি যখন সোজা হয়ে বসেন, তখন মেরুদণ্ড শরীরের ওজন সমানভাবে নিতে পারে। কিন্তু সামনের দিকে ঝুঁকে বসলেই আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝের নরম অংশ বা ‘Intervertebral Disc’-এর ওপর স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি চাপ পড়ে। এই চাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ডিস্ক তার জায়গা থেকে সরে যেতে পারে, যাকে আমরা ডিস্ক প্রোল্যাপস বা পিএলআইডি (PLID) বলি। এতে কোমরের পেশি ও লিগামেন্টে টান লেগে প্রদাহ বা তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
পেশির জড়তা: কেন কোর মাসল দুর্বল হয়?
অনেকেরই ধারণা কোমর ব্যথা মানেই হাড়ের সমস্যা, কিন্তু আসল কারণ বেশিরভাগ সময় আমাদের দুর্বল পেশি। মেরুদণ্ডকে একটি তাঁবুর সাথে তুলনা করুন; যেমন তাঁবুকে শক্ত দড়ি দিয়ে সোজা রাখা হয়, ঠিক তেমনি আমাদের পিঠ ও পেটের গভীরের পেশিগুলো—যাকে ‘কোর মাসল’ বলে—মেরুদণ্ডকে সোজা ও সুরক্ষিত রাখে।
সারাদিন বসে থাকার ফলে এই কোর মাসলগুলো অলস হয়ে পড়ে এবং তাদের স্বাভাবিক শক্তি ও নমনীয়তা হারিয়ে ফেলে। একে আমরা বলি পেশির জড়তা। যখন এই পেশিগুলো মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন শরীরের সব ওজন গিয়ে পড়ে মেরুদণ্ডের হাড় ও জয়েন্টের ওপর। ফলে সামান্য নড়াচড়াতেই কোমরে তীব্র ব্যথা বা খিঁচুনি শুরু হয়।
আধুনিক জীবনযাত্রার মাশুল: শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
ল্যাপটপে কাজ করা, বসে চা-কফি খাওয়া আর কাজ শেষে সোফায় শুয়ে মোবাইল ব্যবহার করা—এই অলস জীবনযাত্রা বা Sedentary Lifestyle আমাদের রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়।
আমাদের মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলোতে সরাসরি রক্তনালী থাকে না; এগুলো পুষ্টি পায় মূলত হাঁটাচলার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পাম্পিং অ্যাকশন থেকে। যখন আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নড়াচড়া না করে বসে থাকি, তখন ডিস্কগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে হাড়ের সংযোগস্থলগুলো শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়, যা সময়ের আগেই মেরুদণ্ডের অকাল বার্ধক্য বা স্পন্ডিলোসিসের মতো সমস্যার দিকে আমাদের ঠেলে দেয়।
সায়াটিকার জন্য সেরা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
কোমর ব্যথার লক্ষণসমূহ: কখন অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কোমর ব্যথাকে অনেকেই সাধারণ সাময়িক ক্লান্তি ভেবে পেনকিলার বা ব্যথানাশক বড়ি খেয়ে চেপে রাখার চেষ্টা করেন। আমাদের ক্লিনিকে এমন অনেক রোগী আসেন যারা বছরের পর বছর ব্যথানাশক খেয়ে নিজেদের কিডনি বা লিভারের ক্ষতি করে ফেলেছেন, কিন্তু ব্যথার মূল কারণ দূর করেননি। মনে রাখবেন, সব কোমর ব্যথা কিন্তু এক নয়। এর লক্ষণগুলোকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
সাধারণ লক্ষণ (Common Symptoms)
- দীর্ঘস্থায়ী মৃদু ব্যথা: কোমরের নিচের অংশে সার্বক্ষণিক একটা নিস্তেজ বা চিনচিনে ব্যথা থাকা, যা কাজ করার সময় বা বসার সময় বেড়ে যায়।
- সকালবেলার আড়ষ্টতা (Morning Stiffness): সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ বা কোমর এতটাই শক্ত হয়ে থাকে যে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা সোজা হয়ে হাঁটতে ১০-১৫ মিনিট সময় লেগে যায়।
- বসার পর উঠতে কষ্ট হওয়া: চেয়ারে বেশ কিছুক্ষণ বসার পর হুট করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে গেলে কোমরে প্রচণ্ড টান লাগা বা লক হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হওয়া।
সতর্কবার্তা বা রেড ফ্ল্যাগস (Red Flags): যখন এক মুহূর্তও দেরি করা চলবে না
কিছু লক্ষণ আছে যা আমাদের মেরুদণ্ডের স্নায়ু বা নার্ভের বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ঘরোয়া উপায় বা অবহেলা না করে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা নিউরো-স্পাইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া (Sciatica): কোমর থেকে শুরু হয়ে নিতম্বের ভেতর দিয়ে পায়ের পেছনের দিক হয়ে ব্যথা যদি একদম আঙুল পর্যন্ত নেমে যায়, তবে একে সাইটিকা বলা হয়। এটি মূলত সাইটিক নার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপের কারণে হয়। [এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের Sciatica and Nerve Pain ব্লগটি পড়তে পারেন।]
- অবশ বা ঝিঁঝিঁ লাগা ভাব: আপনার যদি মনে হয় পা অস্বাভাবিক ভারী লাগছে, পায়ের শক্তি কমে গেছে, হাঁটার সময় স্যান্ডেল পা থেকে খুলে পড়ে যাচ্ছে, কিংবা পায়ে সুঁই ফোটার মতো ঝিঁঝিঁ অনুভূতি হচ্ছে, তবে এটি স্নায়ুর সমস্যার বড় লক্ষণ।
- প্রস্রাব ও পায়খানার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা (Cauda Equina Syndrome): এটি একটি অত্যন্ত জরুরি মেডিকেল পরিস্থিতি। কোমর ব্যথার পাশাপাশি যদি মল-মূত্র ত্যাগের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, তবে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে।
ঘাড়ে ব্যথার আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন এই পোস্টের মাধ্যমে

কোমর ব্যথা কমানোর ৫টি সহজ ও কার্যকর উপায় (ফিজিওথেরাপিস্টের গাইড)
আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে চেয়ার-টেবিল এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি কিছু নিয়ম মেনে চলি, তবে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেও মেরুদণ্ডকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। একজন সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে আমি ৫টি বৈজ্ঞানিক উপায়ের কথা বলব, যা আজ থেকেই আপনার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাতে পারেন।
কোমর ব্যথা থেকে মুক্তির ৫টি মূল চাবিকাঠি:
- ১. এরগোনোমিক সেটআপ: আপনার চেয়ার ও টেবিলের উচ্চতা এমনভাবে রাখুন যেন বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং পিঠের নিচের অংশে পর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকে।
- ২. মাইক্রো-ব্রেক: দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে প্রতি ৪০ মিনিট পরপর অন্তত ২ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়ান বা স্ট্রেচিং করুন, যাতে কোমরের পেশিতে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে।
- ৩. কোর এক্সারসাইজ: নিয়মিত পেলভিক টিল্ট, ব্রিজ এক্সারসাইজ ও ক্যাট-ক্যামেল স্ট্রেচিং করে কোমরের পেশিগুলোকে মজবুত করুন।
- ৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের বাড়তি ওজন মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়ায়, তাই সুষম খাবার ও নিয়ম মেনে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ৫. প্রফেশনাল থেরাপি: ব্যথা তীব্র হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ম্যানুয়াল বা মেকানিক্যাল ফিজিওথেরাপি নিন।
১. সঠিক বসার অভ্যাস এবং এরগোনোমিক সেটআপ
আপনি যে চেয়ারে ৮ ঘণ্টা কাটাচ্ছেন, সেটি আপনার শরীরের জন্য ঠিক তো? বসার ভঙ্গি ঠিক করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
- চেয়ারের সাপোর্ট: চেয়ার এমন হতে হবে যা কোমরের স্বাভাবিক বাঁক ধরে রাখতে পারে। চেয়ারে সেই সুবিধা না থাকলে কোমরের পেছনে একটি ছোট কুশন বা লাম্বার রোল (Lumbar Roll) ব্যবহার করুন।
- উচ্চতা ঠিক করা: দুই পা মেঝেতে সমানভাবে যেন থাকে, সেই উচ্চতায় চেয়ার সেট করুন। হাঁটু যেন নিতম্বের চেয়ে সামান্য নিচে বা সমপর্যায়ে থাকে।
- মনিটরের দূরত্ব: ল্যাপটপ বা কম্পিউটার স্ক্রিন আপনার চোখ থেকে এক হাত দূরত্বে এবং চোখের সমান্তরালে রাখুন, যাতে ঘাড় বা পিঠ বাঁকাতে না হয়।
২. নিয়মিত মাইক্রো-ব্রেক (৪০-২ ফর্মুলা)
আইটি সেক্টরে কাজ করা রোগীদের আমি সবসময় “৪০-২ ফর্মুলা” মেনে চলতে বলি। প্রতি ৪০ মিনিট কাজ করার পর ২ মিনিটের একটি বিরতি নিন।
- বিরতির সময় শুধু চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান।
- হাত কোমরে রেখে হালকা করে শরীরটাকে পেছনের দিকে বাঁকান (Backward Extension)।
- এই ছোট বিরতি মেরুদণ্ডের ওপর জমে থাকা চাপ কমায় এবং পেশিতে নতুন করে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩. কোর স্ট্রেংদেনিং ও স্ট্রেচিং ব্যায়াম
কোমরের পেশিকে শক্ত করতে প্রতিদিন ১৫ মিনিট সময় দিন:
ক) পেলভিক টিল্ট (Pelvic Tilt) ১. শক্ত মেঝের ওপর চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। ২. পেটের পেশি শক্ত করে কোমরের নিচের ফাঁকা অংশটি দিয়ে মেঝেকে জোরে চাপ দিন। ৩. ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। এটি ১০ বার করুন।
খ) ব্রিজ এক্সারসাইজ (Bridge Exercise) ১. চিত হয়ে শুয়ে দুই হাত শরীরের পাশে রাখুন। ২. কোমর ও নিতম্বের পেশি ব্যবহার করে আস্তে আস্তে কোমর ওপরের দিকে তুলুন, যেন হাঁটু থেকে বুক পর্যন্ত সোজা রেখা তৈরি হয়। ৩. ৫ সেকেন্ড ধরে রেখে নিচে নামুন। এটি ১০ বার করুন।
গ) ক্যাট-ক্যামেল স্ট্রেচ (Cat-Camel Stretch) ১. হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়ান। ২. নিশ্বাস ছাড়ার সময় পিঠকে ধনুকের মতো ওপরের দিকে বাঁকান (বেড়ালের মতো) এবং মাথা নিচু করুন। ৩. নিশ্বাস নেওয়ার সময় পিঠকে নিচের দিকে নামিয়ে মাথা ওপরের দিকে তুলুন (উটের মতো)। এটি ৫ বার করুন।
৪. সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণ
পেটের সামনে অতিরিক্ত ওজন বাড়লে তা মেরুদণ্ডকে সামনের দিকে টেনে রাখে, ফলে কোমরের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে মেরুদণ্ড বাড়তি ধকল থেকে মুক্তি পায়। তাই ডায়েট চার্ট মেনে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলা জরুরি।
৫. পেশাদার ফিজিওথেরাপি
ঘরোয়া ব্যায়াম বা বিশ্রামের পরও ব্যথা ৭ দিনের বেশি থাকলে তা অবহেলা করবেন না। ফার্মেসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনার মেরুদণ্ড পরীক্ষা করে প্রয়োজনে ম্যানুয়াল থেরাপি, ড্রাই নিডলিং বা ট্র্যাকশন এর মতো উন্নত চিকিৎসা দেবেন, যা ব্যথার মূলে কাজ করে এবং আপনাকে স্থায়ীভাবে সুস্থ করে তোলে।
ঢাকায় বসে কোমরের ব্যথা কমানোর উপায় জানুন এই পোস্ট পড়ে

জীবনধারা ও ডায়েট: দ্রুত সুস্থতায় যা করণীয়
কোমরের হাড় ও পেশিকে ভেতর থেকে মজবুত করতে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, শরীরের পুষ্টির দিকেও সমান নজর দিতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য কিছু অভ্যাস বদলে ফেলা জরুরি:
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি এর গুরুত্ব: হাড়ের প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম। আর এই ক্যালসিয়াম শরীর যেন ঠিকমতো শোষণ করতে পারে, তার জন্য ভিটামিন-ডি খুব জরুরি। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় খাঁটি দুধ, টক দই, ডিমের কুসুম, ছোট মাছ এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন। এছাড়া ভিটামিন-ডি এর প্রাকৃতিক উৎস হলো সূর্যের আলো; তাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে অন্তত ১৫-২০ মিনিট রোদ গায়ে লাগানোর চেষ্টা করুন।
- ঘুমের সঠিক ভঙ্গি (Sleeping Posture): আমরা সারাদিনের অনেকটা সময় ঘুমে কাটাই, তাই ঘুমের ভঙ্গি ভুল হলে ব্যথা কমবে না। খুব বেশি নরম বা ফোমের বিছানায় না শুয়ে কিছুটা শক্ত ও সমতল বিছানায় শোয়ার চেষ্টা করুন। চিৎ হয়ে শোয়ার সময় হাঁটুর নিচে একটি মাঝারি বালিশ দিন। আর যদি পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস থাকে, তবে দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ রাখুন। এতে মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে এবং চাপ কম পড়ে।
- ভারী জিনিস তোলার নিয়ম: মেঝে থেকে কোনো ভারী জিনিস তোলার সময় ভুলেও কোমর বাঁকিয়ে বা সামনের দিকে ঝুঁকে তুলবেন না। এটি মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। বরং হাঁটু ভাঁজ করে নিচের দিকে বসুন (যাকে আমরা স্কোয়াট বা squat পজিশন বলি), বস্তুটিকে শরীরের একদম কাছাকাছি আনুন এবং পায়ের শক্তির ওপর ভর করে আস্তে করে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
Vision Physiotherapy Center: কেন আমাদের ওপর ভরসা করবেন?
ঢাকায় তো অনেক চিকিৎসা কেন্দ্র আছে, তাহলে কেন আপনি উত্তরার Vision Physiotherapy Center-কে বেছে নেবেন? সহজ উত্তর হলো, আমরা শুধু সাময়িক ব্যথামুক্তি বা ওষুধের ওপর নির্ভরশীল চিকিৎসায় বিশ্বাসী নই। আমরা আপনার ব্যথার আসল কারণ খুঁজে বের করি এবং সেটি স্থায়ীভাবে সারিয়ে তোলার জন্য কাজ করি।
আমাদের বিশেষ সেবাসমূহ:
- অভিজ্ঞ ও দক্ষ ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ দল: আমাদের প্রতিটি চিকিৎসক দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে পারদর্শী।
- ম্যানুয়াল থেরাপি এবং অ্যাডভান্সড কাইরোপ্র্যাকটিক টেকনিক: ব্যথার উৎস নিরাময়ে আমরা উন্নত ম্যানুয়াল থেরাপি এবং কাইরোপ্র্যাকটিক পদ্ধতি ব্যবহার করি।
- স্পোর্টস ইনজুরি ও স্ট্রোক পুনর্বাসন: যেকোনো ধরনের স্পোর্টস ইনজুরি এবং স্ট্রোক পরবর্তী প্যারালাইসিস পুনর্বাসনে আমরা বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করি।
- ঢাকার যেকোনো প্রান্তে হোম সার্ভিস: ক্লিনিকে আসা সম্ভব না হলে আমাদের দক্ষ টিম পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়। আমাদের “Physiotherapy at home in Dhaka” সেবার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই পাচ্ছেন সেন্টারের মতো মানসম্মত চিকিৎসা।
আমাদের সেন্টারে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রোগ নির্ণয় ও থেরাপি সরঞ্জাম। উত্তরা এবং এর আশেপাশের এলাকার রোগীদের জন্য আমরা দিচ্ছি অত্যন্ত সুনিপুণ চিকিৎসা সেবা। যারা তীব্র ব্যথার কারণে বা স্ট্রোকজনিত সমস্যার জন্য ক্লিনিকে আসতে পারেন না, তাদের জন্য আমাদের বিশেষায়িত টিম আছে, যারা আপনার ঘরে গিয়েই চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে কি মেরুদণ্ডের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে? উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। বছরের পর বছর ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষয়ে যাওয়া (Degeneration), পিএলআইডি (PLID) বা আর্লি স্পন্ডিলোসিসের মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সাবধান থাকা ভালো।
প্রশ্ন: কোমর ব্যথায় গরম নাকি বরফ সেঁক, কোনটা ভালো? উত্তর: এটা ব্যথার ওপর নির্ভর করে। নতুন আঘাত বা হঠাৎ পাওয়া ব্যথায় প্রথম ৪৮ ঘণ্টা বরফ সেঁক দিলে ফোলা ও ব্যথা কমে। কিন্তু পুরনো বা দীর্ঘদিনের ব্যথার ক্ষেত্রে গরম সেঁক বা হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো আরাম পায়।
প্রশ্ন: গর্ভবতী অবস্থায় কি ফিজিওথেরাপি নেওয়া নিরাপদ? উত্তর: গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কোমরের ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ। এই সময়ে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে ফিজিওথেরাপি নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকরী। তবে অবশ্যই একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রশ্ন: কোমর ব্যথা কমাতে দিনে কতক্ষণ ব্যায়াম করা উচিত? উত্তর: এর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম করার দরকার নেই। সকালে ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট—এই মোট ৩০ মিনিটের সঠিক ব্যায়ামই আপনার কোমরের পেশিকে সচল ও শক্তিশালী রাখতে যথেষ্ট। তবে ব্যথা খুব বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যায়াম করবেন না।
প্রশ্ন: উত্তরার সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার কীভাবে বুঝব? উত্তর: কোনো সেন্টারে যাওয়ার আগে দেখুন সেখানে সরকার স্বীকৃত অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টরা আছেন কি না। সেন্টারের আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং রোগীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করে নিতে পারেন। এই সব দিক থেকে উত্তরার সেক্টর-১১ তে অবস্থিত Vision Physiotherapy Center আপনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা হতে পারে।
কোমর ব্যথায় আর কষ্ট নয়, আজই আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করুন!
ব্যথাকে অবহেলা করে নিজের কাজের শক্তি আর সুন্দর জীবনটা নষ্ট হতে দেবেন না। আপনার দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার আসল কারণ খুঁজে বের করতে এবং কোনো রকম ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন Vision Physiotherapy Center, উত্তরা, ঢাকা তে।
আমাদের দক্ষ টিম আপনার সুবিধামতো সেন্টারে এসে কিংবা আপনার বাড়িতে গিয়ে (Home Service) সেবা দিতে প্রস্তুত।





