গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা: কেন হয়, কখন এটি স্বাভাবিক আর কখন ভয়ের লক্ষণ?

Table of Contents

ভূমিকা

মাতৃত্বের প্রতিটি মুহূর্ত যেমন আনন্দের, তেমনি গর্ভাবস্থায় শরীরে আসা নানা পরিবর্তন অনেক সময় শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে একটি প্রশ্ন সব হবু মায়ের মনেই থাকে— গর্ভাবস্থায় কি কোমর ব্যথা হয়? বা গর্ভবতী হলে কি কোমর ব্যথা করা স্বাভাবিক?

একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, গর্ভাবস্থায় কোমর বা পিঠে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ গর্ভবতী নারী এই সমস্যার সম্মুখীন হন।

তবে অনেক সময় মায়েরা দ্বিধায় থাকেন যে, এই ব্যথা কি কেবল শারীরিক পরিবর্তনের লক্ষণ নাকি এর পেছনে ভয়ের কিছু আছে। আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা আলোচনা করব গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হয় কেন এবং এটি আসলে কিসের লক্ষণ।

ঘাড়ের ব্যথা দূর করার ৫টি কার্যকর ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম দেখুন

গর্ভাবস্থায় কোমরের ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হয় কেন?

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি শরীরের ভেতর ঘটা জটিল কিছু ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তনের ফলাফল। যখন একটি নতুন প্রাণ জরায়ুতে বেড়ে ওঠে, তখন মায়ের শরীরের হাড়, পেশী এবং লিগামেন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

গর্ভাবস্থায় কোমরের ব্যথার প্রধান কারণ

গর্ভাবস্থায় কেন এই ব্যথা হয়, তা বুঝতে হলে নিচের ৪টি পয়েন্ট খুব গুরুত্ব সহকারে খেয়াল করুন:

  • হরমোনাল পরিবর্তন (Relaxin Hormone): গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই শরীর ‘রিলাক্সিন’ (Relaxin) নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসরণ করে। এই হরমোনের মূল কাজ হলো পেলভিক এরিয়ার লিগামেন্টগুলোকে নরম ও শিথিল করে দেওয়া যাতে প্রসবের সময় শিশু সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু এই হরমোন শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, বরং পুরো শরীরের জয়েন্টগুলোকে লুজ করে দেয়। ফলে মেরুদণ্ডের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং কোমর ব্যথার সৃষ্টি হয়।
  • জরায়ুর আকার বৃদ্ধি ও ওজন: শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে জরায়ুর আকার এবং ওজন বাড়তে থাকে। এই বাড়তি ওজনকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য কোমরের পেশীগুলোকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যা পেশীর ক্লান্তি ও ব্যথার কারণ।
  • পেশীর বিচ্ছেদ (Diastasis Recti): জরায়ু বড় হওয়ার ফলে পেটের সামনের পেশীগুলো মাঝখান দিয়ে কিছুটা আলাদা হয়ে যেতে পারে। এই পেশীগুলো মেরুদণ্ডকে সামনের দিক থেকে সাপোর্ট দেয়। যখন এরা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সম্পূর্ণ চাপ গিয়ে পড়ে কোমরের ওপর।

ঢাকায় ব্যাক পেইন বা কোমর ব্যথা থেকে মুক্তির সহজ উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

গর্ভাবস্থায় কোমরের নিচে ব্যথার কারণ

গর্ভাবস্থায় কোমরের নিচে ব্যথার কারণ

অনেকেই অভিযোগ করেন যে তাদের কোমরের একদম নিচের অংশে বা নিতম্বে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। এর বৈজ্ঞানিক কারণ হলো মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের পরিবর্তন (Shift in Center of Gravity)। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে আপনার শরীরের ভর কেন্দ্র সামনের দিকে সরে যায়। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে মায়েরা অজান্তেই নিজেদের শরীরকে পেছনের দিকে বাঁকিয়ে রাখেন। এই ভুল ভঙ্গির কারণে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের কশেরুকা এবং ডিস্কের ওপর প্রবল মেকানিক্যাল চাপ পড়ে, যা কোমরের নিচে ব্যথার প্রধান কারণ।

গর্ভাবস্থায় পিঠ ও কোমর ব্যথা কেন একসাথে হয়?

পিঠ এবং কোমর মূলত একই চেইনের অংশ। যখন আপনার কোমরের নিচের অংশে ব্যথা শুরু হয়, তখন সেই চাপ সামলাতে পিঠের উপরের অংশের পেশীগুলো অতিরিক্ত সংকুচিত হয়। দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসা (যেমন কুঁজো হয়ে বসে মোবাইল চালানো বা কাজ করা) এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। একে আমরা বলি পোশ্চারাল ব্যাক পেইন।

গর্ভাবস্থায় প্রথম মাসে তলপেটে ব্যথা হওয়ার কারণ জানুন

গর্ভাবস্থায় কোমরের ডান বা বাম পাশে ব্যথার কারণ

ব্যথার ধরণ ও অবস্থান

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সবসময় পুরো পিঠ জুড়ে হয় না। অনেক সময় এটি সুনির্দিষ্ট কোনো একপাশে বা নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টে অনুভূত হতে পারে। ব্যথার সঠিক অবস্থান বুঝতে পারলে এর সঠিক প্রতিকার করা অনেক সহজ হয়ে যায়। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

গর্ভাবস্থায় কোমরের ডান পাশে ব্যথার কারণ কি?

কোমরের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করা গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি সাধারণ সমস্যা। এর পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও জৈবিক কারণ থাকতে পারে:

  • রাউন্ড লিগামেন্টের প্রসারণ (Round Ligament Pain): জরায়ুকে ধরে রাখা লিগামেন্টগুলোর মধ্যে ‘রাউন্ড লিগামেন্ট’ অন্যতম। জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে এই লিগামেন্টটি প্রসারিত হয়। যেহেতু ডান পাশের লিগামেন্টটি অনেক সময় বেশি টানটান থাকে, তাই ডান পাশে তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করলে বা হাসলে এই ব্যথা বাড়তে পারে।
  • পেশীর ভারসাম্যহীনতা (Muscle Imbalance): আমরা যদি অবচেতনভাবে ডান পায়ের ওপর বেশি ভর দিয়ে দাঁড়াই বা ডান দিকে ফিরে বেশি কাজ করি, তবে ডান পাশের কোমরের পেশীগুলোতে অতিরিক্ত টান পড়ে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পেশীর ক্লান্তি বা ‘মাসল স্ট্রেইন’ বলা হয়।
  • অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থান: গর্ভাবস্থায় ডান পাশে যকৃত (Liver) এবং ডান কিডনির ওপর জরায়ুর চাপ কিছুটা বেশি পড়তে পারে, যা কোমরের ডান দিকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোমরের বাম পাশে ব্যথার কারণ কি?

কোমরের বাম পাশে ব্যথার ক্ষেত্রে কারণগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে:

  • শোয়ার ধরণ (Sleeping Posture): চিকিৎসকরা সাধারণত বাম কাতে শোয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একই পাশে (বাম দিকে) শুয়ে থাকার ফলে বাম পাশের হিপ জয়েন্ট এবং কোমরের পেশীতে চাপ পড়তে পারে। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বাম পাশে ব্যথা বা ঝিনঝিন অনুভূত হতে পারে।
  • বাচ্চার অবস্থান (Baby’s Position): শিশু যদি জরায়ুর বাম দিকে বেশি অবস্থান করে বা বাম দিকে লাথি দেয়, তবে সেই পাশের পেশী ও স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে ব্যথা হতে পারে।
  • সায়াটিকা (Sciatica): যদি বাম পাশের কোমর থেকে ব্যথা শুরু হয়ে পায়ের নিচ পর্যন্ত চলে যায়, তবে এটি সায়াটিক নার্ভের ওপর চাপের কারণে হতে পারে। জরায়ুর ওজন সরাসরি এই স্নায়ুর ওপর পড়লে বাম অথবা ডান যেকোনো একপাশে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

ব্যথার ধরণ দেখে কি বোঝা সম্ভব?

  • তীক্ষ্ণ ও হঠাৎ ব্যথা: সাধারণত লিগামেন্টের টান বা হঠাৎ নড়াচড়ার কারণে হয়।
  • ভোঁতা বা একটানা ব্যথা (Dull Ache): এটি পেশীর ক্লান্তি, অতিরিক্ত ওজন বহন বা ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফল।
  • ঝিনঝিন বা অবশ ভাব: এটি স্নায়ু বা নার্ভের ওপর চাপের লক্ষণ, যার জন্য বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।

এটি কি পিরিয়ডের ব্যথা নাকি প্রেগন্যান্সি পেইন?

মায়েরা প্রায়ই দুশ্চিন্তা করেন যে এই হালকা ব্যথা কি পিরিয়ড শুরু হওয়ার লক্ষণ? মনে রাখবেন, প্রেগন্যান্সি পেইন সাধারণত খুব তীব্র হয় না এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যদি ব্যথার সাথে সামান্য স্পটিং বা রক্তপাত হয় এবং আপনার পিরিয়ড মিস হয়ে থাকে, তবে এটি ইমপ্লান্টেশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এটি কি ভয়ের কিছু? (Warning Signs)

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের অংশ। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ আছে যা নির্দেশ করে যে এই ব্যথা সাধারণ নয়, বরং কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সংকেত। এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করলে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় যে যে সবজি খাওয়া যাবে না জানুন

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কিসের লক্ষণ

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কিসের লক্ষণ?

অনেকেই প্রশ্ন করেন, গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কিসের লক্ষণ? এটি যেমন জরায়ু বড় হওয়ার লক্ষণ হতে পারে, তেমনি এটি শরীরের কোনো ইনফেকশন বা সময়ের আগে প্রসব শুরু হওয়ার সংকেতও হতে পারে। নিচে বিপদ চিহ্নগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. প্রস্রাবে ইনফেকশন বা ইউটিআই (UTI)

গর্ভাবস্থায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্রমণ খুব সাধারণ বিষয়। এটি অনেক সময় কোমরের পেছনে বা দুই পাশে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে।

যদি কোমর ব্যথার সাথে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, প্রস্রাব থেকে দুর্গন্ধ আসে বা বার বার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেন, তবে এটি ইউটিআই-এর লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এই ইনফেকশন কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে গেলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

২. প্রসব পূর্ববর্তী ব্যথা (Preterm Labor)

যদি আপনার গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই কোমর ব্যথা শুরু হয় এবং তা নির্দিষ্ট সময় পর পর ফিরে আসে, তবে এটি প্রাক-প্রসব বেদনা বা সময়ের আগে ডেলিভারি হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। ব্যথাটি যদি পিরিয়ডের ক্র্যাম্পের মতো হয় এবং পেটের সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, সাথে পেট শক্ত হয়ে যায় (Contractions), তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে? (বিপদ চিহ্নসমূহ)

নিচের পয়েন্টগুলো দেখা দিলে ঘরোয়া প্রতিকারের অপেক্ষায় না থেকে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন:

  • তীব্র ও অসহ্য ব্যথা: যদি ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে আপনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না।
  • রক্তপাত বা স্রাব: কোমর ব্যথার পাশাপাশি যদি যোনিপথে রক্তপাত (Bleeding) বা অস্বাভাবিক তরল নির্গত হয়।
  • জ্বর ও কাঁপুনি: ব্যথার সাথে শরীর গরম হওয়া বা জ্বর আসা কোনো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
  • পা অবশ হয়ে যাওয়া: যদি ব্যথা কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং পা ঝিনঝিন করা বা অবশ (Numbness) মনে হয়। এটি স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপের সংকেত।
  • প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া বা প্রস্রাবের রঙ লালচে হওয়া।
  • ব্যথার ছন্দ: যদি বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ব্যথা না কমে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে।

কোমর ব্যাথা সারানোর জন্য সহজ ব্যায়াম দেখুন বিস্তারিত

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমাদের পরামর্শ হলো, ব্যথাকে সহ্য করে বসে থাকবেন না। আপনার শরীর আপনাকে কী সংকেত দিচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। সময়মতো সঠিক ডায়াগনোসিস আপনার গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ রাখতে পারে।

উপসংহার

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হওয়া মানেই এটি ভয়ের কিছু নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি আপনার শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। আমরা এই ব্লগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হয় কেন এবং কোন লক্ষণগুলো দেখলে আপনাকে সচেতন হতে হবে। মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থার প্রতিটি ধাপেই শরীর নতুন নতুন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। সঠিক জ্ঞান এবং সামান্য সচেতনতা আপনাকে এই দীর্ঘ নয় মাস অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে সাহায্য করতে পারে।

আপনি একা নন; অধিকাংশ মা-ই এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যান। তাই অকারণে দুশ্চিন্তা না করে নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিন। তবে শুধু কারণ জানলেই হবে না, এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম এবং কিছু নিরাপদ ব্যায়াম জানতে হবে।

আপনার এই কষ্টদায়ক ব্যথা কীভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে এবং সহজ কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের পরবর্তী ব্লগে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আপনার সুস্থ মাতৃত্বের যাত্রায় ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার সবসময় আপনার পাশে আছে। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি পরামর্শ বা সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সংক্রান্ত সেরা ৭টি প্রশ্নোত্তর (FAQs)

১. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কি কোমর ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক?

উত্তর: হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। প্রায় ৭০ শতাংশ গর্ভবতী নারী এই সমস্যার সম্মুখীন হন। হরমোনের পরিবর্তন, জরায়ুর আকার বৃদ্ধি এবং শরীরের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্রের পরিবর্তনের ফলে মেরুদণ্ড ও পেশির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এই ব্যথা তৈরি হয়।

২. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কোমরের ডান পাশে ব্যথার কারণ কি?

উত্তর: গর্ভাবস্থায় কোমরের ডান পাশে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘রাউন্ড লিগামেন্ট’ প্রসারিত হওয়া। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ডান পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো, পেশীর ক্লান্তি বা যকৃতের (Liver) ওপর জরায়ুর চাপের কারণেও ডান পাশে তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৩. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কোমরের নিচে ব্যথার কারণ কি?

উত্তর: গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে শরীরের ভর কেন্দ্র (Center of Gravity) সামনের দিকে সরে যায়। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের কশেরুকা এবং ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত মেকানিক্যাল চাপ পড়ে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পোশ্চারাল ব্যাক পেইন বলা হয়, যা কোমরের নিচে ব্যথার প্রধান কারণ।

৪. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কিসের লক্ষণ?

উত্তর: সাধারণত এটি জরায়ু ও শিশু বড় হওয়ার স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে ব্যথার সাথে যদি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকে তবে তা ইউটিআই (UTI) এর লক্ষণ হতে পারে। আবার ৩৭ সপ্তাহের আগে নির্দিষ্ট বিরতিতে তীব্র ব্যথা হওয়া ‘প্রি-টার্ম লেবার’ বা অকাল প্রসবের সংকেত হতে পারে।

৫. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় প্রথম দিকে কোমর ব্যথার কারণ কি?

উত্তর: গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ‘রিলাক্সিন’ হরমোনের প্রভাবে জয়েন্ট ও লিগামেন্ট শিথিল হতে শুরু করে। এছাড়া ভ্রূণ জরায়ুর দেয়ালে স্থাপিত হওয়ার সময় (Implantation) অনেক মা পিরিয়ডের ক্র্যাম্পের মতো হালকা কোমর ব্যথা অনুভব করেন।

৬. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা কি বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে?

উত্তর: সাধারণ কোমর ব্যথা বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে না। এটি মায়ের শরীরের একটি ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন মাত্র। তবে ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয় বা এর সাথে রক্তপাত ও জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে মা ও শিশু উভয়েই নিরাপদ থাকে।

৭. প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কোমর ব্যথা হলে কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?

উত্তর: যদি ব্যথার কারণে হাঁটাচলা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, ব্যথার সাথে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে, যো*নিপথে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক তরল নির্গত হয় কিংবা পা অবশ মনে হয়; তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

___

লিখেছেন-

ডাঃ সাইফুল ইসলাম, পিটি
বিপিটি ( ঢাবি ), এমপিটি ( অর্থোপেডিকস ) – এন.আই.পি.এস, ইন্ডিয়া
পিজি.সি. ইন আকুপাংচার, ইন্ডিয়া
স্পেশাল ট্রেইন্ড ইন ওজন থেরাপি, ইউ.এস.এ এবং ওজোন ফোরাম, ইন্ডিয়া।
ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট, ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার।

পরামর্শ পেতে – 01760-636324 , 01932-797229 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার

Mobasher Khan
Mobasher Khan
Articles: 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *