পিঠে ব্যথা কি ?
পিঠে ব্যথা হলো পিঠের যেকোনো অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি বোধ করা। এটি একটি সাধারণ সমস্যা যা জীবনের কোনো এক সময়ে হতে পারে , যা প্রায় সকল মানুষকে প্রভাবিত করে। পিঠে ব্যথার তীব্রতা হালকা থেকে তীব্র পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ কি?
পিঠের মাঝখানে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা। এটি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। পিঠের মাঝখানে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। কিছু সাধারণ কারণ হলো:
১. পেশি বা লিগামেন্টে টান (Muscle Strain or Ligament Sprain): এটি পিঠ ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। যখন পিঠের চারপাশের নরম টিস্যুগুলো তাদের সহনক্ষমতার বাইরে প্রসারিত হয়, তখনই এই সমস্যা দেখা দেয়।
- ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো: দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইল ব্যবহার করা বা ল্যাপটপে ঝুঁকে থাকার ফলে পিঠের ‘থোরাসিক স্পাইন’ এর পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। একে ‘পোশ্চারাল সিনড্রোম’ বলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার সৃষ্টি করে।
- ভারী বস্তু তোলা: সঠিক বায়োমেকানিক্স বা নিয়ম না মেনে হঠাৎ ভারী কিছু তুললে পিঠের পেশি বা লিগামেন্টে মাইক্রো-টিয়ার (ক্ষুদ্র ছিঁড়ে যাওয়া) হতে পারে। বিশেষ করে শরীর মোচড় দিয়ে কিছু তুললে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
- হঠাৎ ঝঁকুনি: খেলাধুলা, দ্রুত দৌড়ানো বা সড়ক দুর্ঘটনার সময় পিঠের ওপর হঠাৎ অস্বাভাবিক লোড বা ঝাকুনি পড়লে লিগামেন্ট মচকে গিয়ে তীব্র প্রদাহ ও ব্যথার সৃষ্টি হয়।
২. ডিস্কের সমস্যা (Herniated or Slipped Disc): মেরুদণ্ডের প্রতিটি হাড় বা কশেরুকার মাঝখানে জেলির মতো ‘ডিস্ক’ থাকে যা শক অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে মেরুদণ্ডকে নমনীয় রাখে।
- স্লিপড ডিস্ক: বয়সের কারণে বা অতিরিক্ত চাপে যদি এই ডিস্কের বাইরের শক্ত আবরণ ফেটে ভেতরের জেলি বের হয়ে আসে, তবে তা পাশের স্পাইনাল নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শুধু পিঠের মাঝখানে ব্যথাই হয় না, বরং সেই ব্যথা হাতে ছড়িয়ে পড়া, হাত-পিঠ ঝিনঝিন করা, ইলেকট্রিক শকের মতো অনুভূতি হওয়া বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৩. মেরুদণ্ডের অস্টিওআর্থারাইটিস (Osteoarthritis): এটি মূলত মেরুদণ্ডের জয়েন্টগুলোর একটি ক্ষয়জনিত রোগ যা সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকট হয়।
- ক্ষয় ও প্রদাহ: বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ডের হাড়ের সংযোগস্থলের তরুণাস্থি বা কার্টিলেজগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে হাড়ের সাথে হাড়ের সরাসরি ঘর্ষণ বেড়ে যায় এবং জয়েন্টে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠলে পিঠ শক্ত হয়ে থাকে এবং নড়াচড়া করলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. স্পন্ডিলোলিসিস ও মেরুদণ্ডের বক্রতা: মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনগত পরিবর্তন বা জন্মগত ত্রুটির কারণেও পিঠের মাঝখানে ব্যথা হতে পারে।
- স্কোলিওসিস (Scoliosis): মেরুদণ্ড যদি স্বাভাবিক সোজা না থেকে ডানে বা বামে ‘S’ বা ‘C’ আকৃতিতে বেঁকে যায়, তবে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে পিঠের একদিকের পেশিতে সবসময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে থাকে, যা ক্রনিক পেইনের কারণ।
- কাইফোসিস (Kyphosis): এটি হলো পিঠের উপরিভাগ অতিরিক্ত কুঁজো হয়ে যাওয়া। দীর্ঘকাল ভুল ভঙ্গিতে বসা বা হাড় দুর্বল হওয়ার ফলে মেরুদণ্ড সামনের দিকে ঝুঁকে যায়, যা পিঠের পেশিগুলোকে সবসময় টানটান অবস্থায় রাখে এবং ব্যথার সৃষ্টি করে।
৫. জীবনযাত্রার ধরন ও মানসিক চাপ: শারীরিক কাঠামোর পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং মানসিক অবস্থাও পিঠ ব্যথার জন্য দায়ী।
- অতিরিক্ত ওজন: শরীরের বাড়তি ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক কার্ভকে সামনের দিকে টেনে নেয়। এর ফলে পিঠের পেশি ও লিগামেন্টের ওপর সার্বক্ষণিক অতিরিক্ত মেকানিক্যাল চাপ সৃষ্টি হয়।
- মানসিক চাপ (Stress): মানুষ যখন অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেসে থাকে, তখন শরীরের পেশিগুলো অবচেতনভাবেই শক্ত বা টানটান হয়ে যায় (Muscle tension)। দীর্ঘসময় ধরে পেশি এভাবে সংকুচিত থাকলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং পিঠে তীব্র কামড়ানো ব্যথা হতে পারে।
৬. অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যা: অনেক সময় পিঠের হাড় বা পেশিতে সমস্যা না থাকলেও শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গের সমস্যার সংকেত হিসেবে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
- কিডনির সমস্যা: কিডনিতে পাথর, ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে সেই ব্যথা অনেক সময় পিঠের নিচের দিক থেকে মাঝখানে পাঁজরের নিচে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- পিত্তথলির পাথর: পিত্তথলিতে পাথর বা প্রদাহ থাকলে সেই ব্যথা ডান কাঁধের নিচে বা দুই পাঁজরের মাঝখানে পিঠের অংশে তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে। একে ‘রেফার্ড পেইন’ বলা হয়।
৭. অন্যান্য গুরুতর কারণ: কিছু ক্ষেত্রে পিঠের ব্যথা বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতার পূর্বলক্ষণ হতে পারে যা দ্রুত নির্ণয় করা জরুরি।
- অস্টিওপরোসিস: হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। এর ফলে মেরুদণ্ডের হাড়গুলো এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে, সামান্য আঘাতেই সেখানে সূক্ষ্ম ফ্র্যাকচার বা ফাটল দেখা দিতে পারে।
- অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস: এটি এক ধরণের অটো-ইমিউন আর্থ্রাইটিস যা মেরুদণ্ডের জয়েন্টগুলোকে ক্রমান্বয়ে শক্ত করে ফেলে এবং একসময় হাড়গুলো জোড়া লেগে যায়, ফলে মেরুদণ্ড তার নমনীয়তা হারায়।
- ক্যান্সার বা টিউমার: যদিও এটি বিরল, তবে মেরুদণ্ডে কোনো প্রাইমারি টিউমার বা শরীরের অন্য অংশ থেকে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তীব্র এবং স্থায়ী ব্যথা হতে পারে যা বিশ্রামেও কমে না।
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ হল পেশী বা লিগামেন্টে চাপ বা আঘাত। এটি হঠাৎ করে বা ধীরে ধীরে হতে পারে। হঠাৎ আঘাতের কারণ হতে পারে ভারী জিনিস তোলা, খেলাধুলা করা বা গাড়ি দুর্ঘটনা। ধীরে ধীরে আঘাতের কারণ হতে পারে ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো, বা দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে কাজ করা।
ডিস্ক প্রলাপস
মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝে থাকা স্থিতিস্থাপক ডিস্ক যখন তার জায়গা থেকে সরে যায় বা ফেটে বের হয়ে আসে, তখন তাকে ডিস্ক প্রলাপস বলে। এই বাড়তি অংশটি পাশের স্নায়ুর ওপর চাপ দেয়, যার ফলে পিঠের মাঝখানে তীব্র ব্যথার পাশাপাশি হাত বা পিঠের নির্দিষ্ট অংশ ঝিনঝিন করা, অবশ হওয়া বা অসাড়তা অনুভূত হতে পারে।
মেরুদণ্ডের অস্টিওআর্থারাইটিস
এটি মেরুদণ্ডের হাড়ের একটি ক্ষয়জনিত সমস্যা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের জয়েন্টগুলো ক্ষয়ে গেলে মেরুদণ্ড তার নমনীয়তা হারায় এবং হাড়ের ঘর্ষণে প্রদাহ তৈরি হয়। এর ফলে পিঠ শক্ত হয়ে থাকে এবং নড়াচড়া করলে বা দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ব্যথা অনুভব হয়।
স্পন্ডিলোলিসিস
এই সমস্যায় মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নিচের হাড়ের ওপর চেপে বসে। এটি মেরুদণ্ডের স্নায়ুমূলে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করে, যা থেকে পিঠের মাঝখানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, দুর্বলতা এবং মাংসপেশিতে খিঁচুনি হতে পারে।
কিডনি সংক্রমণ
কিডনিতে ইনফেকশন হলে সেই ব্যথা পিঠের নিচের দিক থেকে শুরু হয়ে মাঝখানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মেরুদণ্ডের ব্যথার সাথে এর মূল পার্থক্য হলো—এর সাথে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা পুঁজ যাওয়া এবং তলপেটে ব্যথার মতো লক্ষণগুলো বিদ্যমান থাকে।
ক্যান্সার
পিঠের ব্যথার একটি বিরল কিন্তু গুরুতর কারণ হলো ক্যান্সার বা মেরুদণ্ডের টিউমার। যদি ব্যথার পাশাপাশি হঠাৎ করে শরীরের ওজন কমতে থাকে, সারাক্ষণ প্রচণ্ড ক্লান্তি লাগে এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পিঠের মাঝখানে ব্যথার চিকিৎসা
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর উপর নির্ভর ও তীব্রতার উপর উপর নির্ভর চিকিৎসা দেয়া হয় । হালকা ব্যথার জন্য বিশ্রাম, বরফ, চাপ এবং উত্তোলন পদ্ধতিগুলি সাহায্য করতে পারে। ব্যথা তীব্র হলে, ব্যথানাশক ওষুধ বা ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ ও তার প্রতিরোধ
পিঠের মাঝখানে ব্যথা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
১. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে পেটের মেদ মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন বা ‘কার্ভ’ নষ্ট করে দেয়। এর ফলে পিঠের মাংসপেশি ও লিগামেন্টের ওপর সবসময় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে মেরুদণ্ড অতিরিক্ত ভার থেকে মুক্ত থাকে।
২. সঠিক ভঙ্গিতে বসা, দাঁড়ানো এবং চলাচল করা: দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে পিঠের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- বসার সময়: মেরুদণ্ড সোজা রাখুন এবং চেয়ারের ব্যাকরেস্ট ব্যবহার করুন। কম্পিউটারে কাজ করলে স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরালে রাখুন যাতে ঘাড় ও পিঠ ঝুঁকে না থাকে।
- দাঁড়ানোর সময়: বুক টানটান করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। প্রতি ২০-৩০ মিনিট অন্তর একটু বিরতি নিন এবং হালকা স্ট্রেচিং করুন।
৩. ভারী বস্তু তোলার সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করুন: অনেক সময় হঠাৎ ভুলভাবে ভারী কিছু তুললে পিঠের পেশিতে তীব্র টান পড়ে বা ডিস্ক প্রলাপস হতে পারে।
- ভারী কিছু তোলার সময় সরাসরি পিঠ বাঁকাবেন না।
- প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করে নিচে বসুন, বস্তুটি শরীরের কাছাকাছি ধরুন এবং তারপর পায়ের ওপর ভর দিয়ে আস্তে আস্তে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এতে চাপের কেন্দ্রবিন্দু পিঠ থেকে পায়ের মাংসপেশিতে স্থানান্তরিত হয়।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করুন: পিঠের পেশিগুলোকে শক্তিশালী এবং নমনীয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই।
- পিঠের মাংসপেশি শক্ত করার (Strengthening exercises) এবং নমনীয়তা বাড়ানোর (Flexibility exercises) নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট করুন।
- নিয়মিত সাঁতার কাটা বা হালকা যোগব্যায়াম পিঠের হাড় ও পেশির সুস্থতায় দারুণ কাজ করে।
পিঠে ব্যাথা হলে করনীয় কি?
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ , পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। পিঠে ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে, যেমনঃ
- হঠাৎ ভারী কিছু তোলা বা ভুলভাবে নড়াচড়া করলে পিঠের পেশিতে টান লেগে বা মচকে গিয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
- মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের নরম ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বের হয়ে আসলে পাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে ব্যথা তৈরি হয়।
- বয়সজনিত কারণে মেরুদণ্ডের জয়েন্টগুলো ক্ষয়ে গেলে বা সেখানে প্রদাহ হলে পিঠ শক্ত হয়ে যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে যাওয়া স্নায়ুর পথটি সরু হয়ে গেলে স্নায়ুতে চাপ পড়ে পিঠ ও পায়ে ব্যথা বা অবশ ভাব হতে পারে।
- মেরুদণ্ডের হাড় বা ডিস্কের অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে নার্ভ রুট সংকুচিত হলে পিঠের মাঝখানে তীব্র ও ঝিনঝিন করা ব্যথা হয়।
- গর্ভকালীন সময়ে শরীরের ওজন বৃদ্ধি এবং হরমোনের পরিবর্তনের ফলে মেরুদণ্ড ও লিগামেন্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে পিঠে ব্যথা হয়।
- শরীরের বাড়তি মেদ, বিশেষ করে পেটের ওজন মেরুদণ্ডকে সামনের দিকে টেনে রাখে, যা পিঠের পেশিকে সবসময় ক্লান্ত ও ব্যথাতুর করে তোলে।
- দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসে কাজ করা বা ল্যাপটপ-মোবাইল ব্যবহারের সময় মেরুদণ্ড সোজা না রাখলে পিঠের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে ব্যথা হয়।
পিঠে ব্যথার ধরন এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে, কিছু ঘরোয়া প্রতিকার উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। এই প্রতিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ঠান্ডা সেঁক: ঠান্ডা সেঁক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। দিনে ২-৩ বার ২০ মিনিট করে ঠান্ডা সেঁক (আইস প্যাক) দিতে পারলে নিশ্চিতভাবে আরাম পাবে।
- গরম সেঁক: ঠান্ডা সেঁকের পরে, গরম সেঁক পেশীগুলিকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। দিনে ২-৩ বার ২০ মিনিট করে গরম সেঁক (হিটিং প্যাড বা গরম-পানির বোতল) দিতে পারলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
- ওষুধ: ওভার-দ্য-কাউন্টার বা প্রেসক্রিপশন বেদনানাশক ওষুধ ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
- ব্যায়াম: পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট ব্যায়াম পিঠের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে উপযুক্ত ব্যায়ামগুলি খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
যদি ঘরোয়া প্রতিকারগুলি ব্যথা উপশম করতে না পারে, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত। আপনার ডাক্তার আপনার ব্যথার কারণ নির্ণয় করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
পিঠে ব্যথা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করুন:
সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখুন: বসা, দাঁড়ানো বা শুয়ে থাকার সময় সোজা হয়ে থাকুন।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন: মজবুত পেশী পিঠকে মজবুত করতে সাহায্য করে।
ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করুন: জিনিসগুলিকে আপনার কাছে আনুন এবং হাঁটু বাঁকিয়ে তুলুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন: অতিরিক্ত ওজন পিঠে চাপ বাড়াতে পারে।
পিঠে ব্যথা একটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার পিঠে ব্যথা হয় যা তীব্র হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত।
গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যাথা হয় কি?
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণঃ গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যথার কারণ হল গ্যাস্ট্রিকের কারণে সৃষ্ট অ্যাসিড রিফ্লাক্স। অ্যাসিড রিফ্লাক্স হল যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে আসে। এটি বুকে জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, অ্যাসিড রিফ্লাক্স পিঠে ব্যথাও সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে পিঠে ব্যথা হওয়ার কয়েকটি কারণ হল:
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণঃ অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড পেটের পেশীগুলিকে উত্তেজিত করতে পারে। এই উত্তেজনা পিঠে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড পিঠের পেশীগুলিকে প্রসারিত করতে পারে। এই প্রসারণ পিঠে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড পিঠের স্নায়ুগুলিকে জ্বালা করতে পারে। এই জ্বালা পিঠে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যথা সাধারণত পিঠের মাঝখানে বা বাম দিকে অনুভূত হয়। ব্যথাটি সাধারণত তীব্র বা পোড়ার মতো হয়। ব্যথাটি খাওয়ার পরে বা শুয়ে থাকার সময় খারাপ হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যথা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করুন:
- অতিরিক্ত ওজন কমাতে কাজ করুন। অতিরিক্ত ওজন পেটের চাপ বাড়াতে পারে, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যা পেটের অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে ফিরে আসতে বাধা দিতে পারে।
- পর্যাপ্ত ঘুমান। অতিরিক্ত ঘুম পেটের অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে ফিরে আসতে বাধা দিতে পারে।
খাওয়ার পরে শোবেন না। খাওয়ার পরে অন্তত দুই ঘন্টা হাঁটুন বা বসে থাকুন। - মশলাদার, চর্বিযুক্ত বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এই খাবারগুলি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যালকোহল এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল এবং ধূমপান পেটের অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়াতে পারে।
- যদি আপনার গ্যাস্ট্রিক থেকে পিঠে ব্যথা হয়, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার আপনার লক্ষণগুলি নির্ণয় করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
আরও জানুন : কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ, চিকিৎসা ও তার প্রতিকার
পিঠে ব্যথার ঔষধের নাম
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর জন্য অনেক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে কোন ওষুধটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
অ-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ (NSAIDs) হল পিঠে ব্যথার জন্য সবচেয়ে সাধারণ ধরণের ওষুধ। এগুলি প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। NSAIDs এর মধ্যে রয়েছে:
- অ্যাসপিরিন
- ইবুপ্রোফেন
- ন্যাপ্রোক্সেন
- ডাইক্লোফেনাক
- পিঠে ব্যথার জন্য কোন ওষুধটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত তা নির্ধারণ করতে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
- ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) NSAIDs সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ব্যথার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদি আপনার ব্যথা তীব্র হয়, তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে প্রেসক্রিপশন NSAIDs লিখে দিতে পারেন।
- ওপিওডস হল আরেক ধরনের ওষুধ যা পিঠে ব্যথার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলি ব্যথা কমাতে খুব কার্যকর, তবে এগুলিও আসক্তিযুক্ত হতে পারে। ওপিওডগুলি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস (TCAs) হল একটি ধরণের ওষুধ যা ব্যথা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। TCAs সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- গাবাপেন্টিন এবং প্রেগাবালিন হল দুটি ধরণের ওষুধ যা ব্যথা এবং স্নায়ু আক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। এই ওষুধগুলি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- স্টেরয়েডস হল একটি ধরণের ওষুধ যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। স্টেরয়েডগুলি সাধারণত তীব্র ব্যথা বা প্রদাহের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ব্যথানাশক ক্রিম এবং জেল হল পিঠে ব্যথার জন্য একটি বিকল্প চিকিত্সা। এই ওষুধগুলি প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর নির্ভর করে ফিজিওথেরাপি হল পিঠে ব্যথার জন্য একটি কার্যকর চিকিত্সা। ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে সঠিক ব্যায়াম এবং নিয়মকানুন শিখতে সাহায্য করতে পারেন যা আপনার পিঠকে শক্তিশালী এবং নমনীয় করতে সাহায্য করবে।
আরও জানুন : কোমর ব্যাথা নিরাময়ে আকুপাংচার যেন এক অনন্য চিকিৎসা
পিঠে ব্যথার চিকিৎসা ও প্রতিকার
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর নির্ভর করে পিঠে ব্যথার চিকিৎসা
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর উপর নির্ভর করে ,পিঠে ব্যথার চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার কারণ এবং তীব্রতার উপর। হালকা পিঠে ব্যথার জন্য, বিশ্রাম, বরফ, চাপ এবং উত্তোলন (RICE) পদ্ধতিগুলি সাহায্য করতে পারে। তীব্র পিঠে ব্যথার জন্য, ব্যথানাশক ওষুধ বা ইনজেকশন প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
হালকা পিঠে ব্যথার চিকিৎসা
চাপ: চাপ প্রয়োগ করা প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি তোয়ালে বা বরফের ব্যাগ দিয়ে ব্যথাযুক্ত এলাকায় চাপ প্রয়োগ করুন।
উত্তোলন: ব্যথাযুক্ত এলাকাটিকে উঁচু করা প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি বালিশ বা তোয়ালে দিয়ে ব্যথাযুক্ত এলাকাটিকে উঁচু করুন।
তীব্র পিঠে ব্যথার চিকিৎসা
ব্যথানাশক ওষুধ: ব্যথানাশক ওষুধ, যেমন অ-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ (NSAIDs) বা ওপিওডস, ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ইনজেকশন: স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ওষুধের ইনজেকশন ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে সঠিক ব্যায়াম এবং নড়াচড়া শিখতে সাহায্য করতে পারেন যা আপনার পিঠকে শক্তিশালী এবং নমনীয় করতে সাহায্য করবে।
সার্জারি: কিছু ক্ষেত্রে, সার্জারি ব্যথার কারণ নির্মূল করতে সাহায্য করতে পারে।
পিঠের মাঝখানে ব্যথা কারণ এর উপর নির্ভর করে পিঠে ব্যথার ব্যায়াম
পিঠে ব্যথার ব্যায়াম মেরুদণ্ডের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে এবং মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ব্যথা কমাতে এবং পিঠে ব্যথার ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
পিঠে ব্যথার ব্যায়াম শুরু করার আগে, আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনার জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলি নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে।
পিঠে ব্যথার জন্য কিছু সাধারণ ব্যায়াম নিম্নরূপ:
ক্যাট-কাউ ব্যায়াম: এই ব্যায়ামটি মেরুদণ্ডের নমনীয়তা এবং স্থিতিশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
- উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন, আপনার হাঁটু বাঁকানো এবং আপনার পা মেঝেতে সমতল রেখে।
- আপনার মাথা এবং বুক উপরে তুলুন, আপনার পিঠের উপর একটি বক্রতা তৈরি করুন।
- আপনার মাথা এবং বুক নিচে নামিয়ে আনুন, আপনার পিঠকে একটি প্লেটে পরিণত করুন।
- এই আন্দোলনটি ধীরে ধীরে ১০-১২ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

কাঁধের প্রসারণ: এই ব্যায়ামটি মেরুদণ্ডের উপরের অংশের পেশীগুলিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
- দাঁড়িয়ে বা বসে, আপনার হাত আপনার পাশে রাখুন।
- আপনার ডান হাত আপনার মাথার উপরে তুলুন, আপনার বাম হাত দিয়ে আপনার ডান হাতের কনুই ধরুন।
- আপনার ডান কাঁধটি আপনার কানের দিকে টানুন।
- এই অবস্থানে ১০-১২ সেকেন্ড ধরে থাকুন।
- তারপর অপরদিকে পুনরাবৃত্তি করুন।

পশ্চাদপদ বাঁক: এই ব্যায়ামটি মেরুদণ্ডের নিম্ন অংশের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
- আপনার পিঠের উপর শুয়ে পড়ুন, আপনার হাঁটু বাঁকানো এবং আপনার পা মেঝেতে সমতল রেখে।
- আপনার হাত আপনার পাশে রাখুন।
- আপনার ডান পাটি মেঝে থেকে তুলুন এবং আপনার ডান হাত দিয়ে আপনার ডান পায়ের গোড়ালি ধরুন।
- আপনার ডান পা আপনার বুকের দিকে টানুন।
- এই অবস্থানে 10-15 সেকেন্ড ধরে থাকুন।
- তারপর অপরদিকে পুনরাবৃত্তি করুন।

পিঠে ব্যথার ব্যায়াম শুরু করার সময়, নিম্নলিখিত টিপসগুলি মনে রাখবেন:
- আপনার ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী ব্যায়াম শুরু করুন।
- যদি আপনার ব্যথা বেড়ে যায়, ব্যায়াম বন্ধ করুন।
- প্রতিদিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম করুন।
- আপনার শ্বাস ধরে রাখা এড়িয়ে চলুন।
পিঠে ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ?
পিঠে ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে সঠিক ব্যায়াম এবং নড়াচড়া শিখতে সাহায্য করতে পারেন যা আপনার পিঠকে শক্তিশালী এবং নমনীয় করতে সাহায্য করবে। এটি ব্যথা কমাতে এবং পিঠে ব্যথার ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
ব্যায়াম: ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে সঠিক ব্যায়াম এবং নড়াচড়া শিখতে সাহায্য করতে পারেন যা আপনার পিঠের পেশীগুলিকে শক্তিশালী এবং নমনীয় করতে সাহায্য করবে।
মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা: পিঠে ব্যথার কারণে অনেক মানুষ মানসিক চাপ অনুভব করতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে সাহায্য করতে পারেন।
উপকরণ: ফিজিওথেরাপিস্টরা আপনাকে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করতে সাহায্য করতে পারেন যা আপনার পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে গরম বা ঠান্ডা প্রয়োগ, ম্যাসেজ, এবং ইলাস্টিক ব্যান্ড।
পিঠে ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার কার্যকারিতা বেশ কয়েকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিঠে ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পেশী শক্তি এবং নমনীয়তা উন্নত করতে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
পিঠে ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করার আগে, আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনার জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে।
লিখেছেন-
ডাঃ সাইফুল ইসলাম, পিটি
বিপিটি ( ঢাবি ) , এমপিটি ( অর্থোপেডিকস ) – এন.আই.পি.এস , ইন্ডিয়া
পিজি.সি. ইন আকুপাংচার , ইন্ডিয়া
স্পেশাল ট্রেইন্ড ইন ওজন থেরাপি , ইউ.এস.এ এবং ওজোন ফোরাম , ইন্ডিয়া ।
ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট , ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার ।
পরামর্শ পেতে – 01760-636324 , 01932-797229 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা)
ফেসবুকঃ ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার
এপয়েন্টম্যান্ট নিতে ক্লিক করুনঃ
Appointment Now
সাধারণ জিজ্ঞাসা
দুর্বল ভঙ্গি কি সত্যিই মাঝখানে পিঠে ব্যথা হতে পারে?
হ্যাঁ, দুর্বল ভঙ্গি, বিশেষ করে যখন দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বা ঝিমিয়ে থাকা, পিঠের মাঝখানের পেশী এবং মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ দিতে পারে, যার ফলে ব্যথা হতে পারে। আপনার ভঙ্গি সংশোধন করা এবং ergonomic সমর্থন ব্যবহার করা এই অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পিঠের মাঝামাঝি ব্যথার জন্য কখন আমার চিকিত্সার পরামর্শ নেওয়া উচিত?
যদি আপনার মাঝখানের পিঠে ব্যথা তীব্র হয়, কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে থাকে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য সম্পর্কিত উপসর্গ থাকে, তাহলে অবিলম্বে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করুন। অতিরিক্তভাবে, যদি আপনার সাম্প্রতিক আঘাত বা ট্রমা হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসার পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।





