কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ

Table of Contents

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ হতে পারে সায়াটিকার সমস্যা যেটা এই ব্যথার প্রধান কারন। সায়াটিকা নার্ভে যখন চাপ লাগে তখন কোমরের ব্যথা পায়ের পিছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সায়াটিকা নার্ভে যখন হালকা চাপ লাগে তখন ব্যথা পায়ে যায়, যখন আর একটু চাপ লাগে তখন পা জিন জিন করে, আর একটু চাপ বাড়লে পা ভারী হয়ে আসে। চাপ যখন বেশি লাগে সায়াটিকা নার্ভে তখন পা অবশ হয়ে আসে। সায়াটিকা নার্ভে যখন সবচেয়ে বেশি চাপ লাগে তখন পা একবারে অবশ হয়ে যেতে পারে এটা একটা মারাত্মক কারন হতে পারে।

সায়াটিকা কি ?

সায়াটিকা বলতে বোঝায় পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, অসাড়তা বা পায়ে শিহরণ। এই সমস্যাটি সায়াটিক স্নায়ুতে আঘাত বা চাপের কারণে হয়। সায়াটিক স্নায়ু নীচের পিঠ থেকে কোমর এবংকোমরের মধ্য দিয়ে পায়ের নিচে পর্যন্ত যায়।

সায়াটিকা সাধারনত ঘটে যখন একটি হার্নিয়েটেড ডিস্ক বা হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি স্নায়ুর অংশে চাপ দেওয়ার ফলে। এর ফলে আক্রান্ত পায়ে প্রদাহ, ব্যথা এবং অসাড়তা সৃষ্টি হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা নিলে  সায়াটিকা ভালো হয়ে যায়। যাদের গুরুতর সায়াটিকা, গুরুতর পায়ে দুর্বলতা বা অন্ত্র এবং মূত্রাশয়ে পরিবর্তন হয় তাদের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ

সায়াটিক নার্ভকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থার কারণে কোমর থেকে পায়ের ব্যথা হয়ে থাকে। পাঁচটি মেরুদণ্ডের স্নায়ুর যে কোনও একটিকে চাপ পড়লে এটি হয়ে থাকে। সায়াটিকায় আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।জেনে নি সায়াটিকা বা কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণঃ

  • হার্নিয়েটেড ডিস্কঃ সায়াটিকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল হার্নিয়েটেড ডিস্ক। ডিস্কগুলি আপনার মেরুদণ্ডের কশেরুকার মধ্যে কুশনের মতো কাজ করে। এই ডিস্কগুলি আপনার বয়সের সাথে সাথে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আঘাতের জন্য আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও একটি ডিস্কের জেল সায়াটিক স্নায়ুর শিকড়গুলিতে চাপ দেয়। এর ফলে ব্যথা কোমের থেকে বাড়তে থাকে পা পর্যন্ত চলে যায়।
  • মেরুদণ্ড সংকীর্ণঃ মেরুদণ্ডের প্রাকৃতিক পরিধান এবং ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে মেরুদণ্ডের খাল সংকুচিত হতে পারে। এই সংকীর্ণতা, যাকে স্পাইনাল স্টেনোসিস বলা হয়, এর ফলে সায়াটিক নার্ভের শিকড়ের উপর চাপ পড়ে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মেরুদণ্ডের স্টেনোসিস বেশি দেখা যায়।
  • স্পাইনাল টিউমারঃ স্পাইনাল কর্ড বা সায়াটিক নার্ভের ভিতরে বা পাশে টিউমার বৃদ্ধির ফলে সায়াটিকা হতে পারে। একটি টিউমার বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি স্নায়ুর উপর চাপ দিতে পারে যা মেরুদন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ব্যথা হয়ে থাকে তীব্র।
  • পিরিফর্মিস সিন্ড্রোমঃ পিরিফর্মিস হল একটি পেশী যা নিতম্বের গভীরে পাওয়া যায়। এটি নীচের মেরুদণ্ডকে উপরের উরুর হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে এবং সরাসরি সায়াটিক স্নায়ুর উপর দিয়ে চলে। যদি এই পেশীটি খিঁচুনিতে যায় তবে এটি সায়াটিক স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে সায়াটিকা হয় । পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
  • ইনজুরি বা ইনফেকশনঃ সায়াটিকার অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে পেশীর ব্যথা, সংক্রমণ বা আঘাত এবং ফ্র্যাকচার। সাধারণভাবে, যে কোনও অবস্থা সায়াটিক স্নায়ুকে সংকুচিত বা চাপ দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সায়াটিকার কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা বা সায়াটিকার লক্ষণ

অবশ্যই, কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা বা সায়াটিকার লক্ষণগুলো বিস্তারিতভাবে এবং সহজ ভাষায় সাজিয়ে নিচে বর্ণনা করা হলো।

সায়াটিকা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে সায়াটিক স্নায়ু (Sciatic Nerve) কোনো কারণে চাপা পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে কোমর থেকে পা পর্যন্ত তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সায়াটিক স্নায়ু হলো মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম এবং মোটা স্নায়ু, যা মেরুদণ্ডের নিচের অংশ থেকে শুরু হয়ে নিতম্বের মধ্য দিয়ে পায়ের নিচ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। তাই এই স্নায়ুতে কোনো সমস্যা হলে তার লক্ষণগুলো কোমর থেকে শুরু হয়ে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

১. ব্যথার ধরন এবং তীব্রতা

সায়াটিকার সবচেয়ে প্রধান এবং সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো ব্যথা, যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ছড়িয়ে পড়ে।

  • কোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা: ব্যথা সাধারণত পিঠের নিচের দিক (কোমর) থেকে শুরু হয়, যা নিতম্বের মধ্য দিয়ে যায় এবং একটি পায়ের পেছনের দিক দিয়ে নিচে নেমে যায়। এটি পায়ের গোড়ালি বা পায়ের আঙুল পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। ব্যথা সবসময় এক পায়ে হবে, সাধারণত দুই পায়ে সায়াটিকার ব্যথা হয় না।
  • ব্যথার অনুভূতি: ব্যথার ধরন ভিন্ন হতে পারে। কিছু মানুষ তীক্ষ্ণ, জ্বলন্ত বা তীব্র ব্যথার কথা বলেন, আবার কেউ কেউ বলেন যে এটি একটি মৃদু বা হালকা যন্ত্রণার মতো। ব্যথা কখনও কখনও বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি দিতে পারে।
  • ব্যথার তীব্রতা: ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং এর তীব্রতা হালকা থেকে মারাত্মক হতে পারে। সাধারণত, কিছু নির্দিষ্ট কার্যকলাপের সময় ব্যথা আরও খারাপ হয়। যেমন—বসা অবস্থায়, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় এবং কোনো কিছু তোলার সময়।

২. দুর্বলতা, অসাড়তা এবং ঝিমঝিম অনুভূতি

ব্যথা ছাড়াও সায়াটিকার কারণে পায়ে কিছু স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

  • পায়ে অসাড়তা বা ঝিমঝিম অনুভূতি: সায়াটিক স্নায়ু যখন চাপযুক্ত থাকে, তখন তা পায়ে অসাড়তা বা “পিনস অ্যান্ড নিডেলস” (pins and needles) নামক ঝিমঝিম অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। এই অনুভূতি সাধারণত পায়ের যেকোনো অংশে হতে পারে, যেমন—পায়ের পাতা, গোড়ালি বা আঙুল।
  • পেশীর দুর্বলতা: সায়াটিক স্নায়ু পায়ের পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। তাই যখন এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন পায়ের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর ফলে হাঁটাচলায়, পা নাড়াচাড়ায় বা কোনো কিছু তোলার সময় সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দুর্বলতার কারণে পা টেনে টেনে হাঁটতে হয় বা হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ব্যথার বৃদ্ধি

সায়াটিকার ব্যথা কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক নড়াচড়ায় বা পরিস্থিতিতে বেড়ে যায়।

  • বসা অবস্থায় ব্যথা: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সায়াটিক স্নায়ুর উপর চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে ব্যথা বাড়ে।
  • হাঁচি, কাশি বা হাসলে: হাঁচি, কাশি বা হাসার সময় পেটের পেশীর উপর চাপ পড়ে, যা মেরুদণ্ডের উপর এবং সায়াটিক স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যথা বেড়ে যায়।
  • হঠাৎ নড়াচড়া: কোমর বা পা হঠাৎ করে বাঁকালে বা মোচড় দিলে ব্যথা বেড়ে যায়।

৪. ব্যথার সময়কাল

সায়াটিকার লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী (ছয় সপ্তাহের বেশি) হতে পারে। যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে বা কয়েক সপ্তাহ ধরে না কমে, তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্বল্পস্থায়ী ব্যথা: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সায়াটিকার ব্যথা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সাধারণত, সঠিক চিকিৎসা এবং বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে আসে।

কোমর ও পায়ের ব্যথার কারণ

কোমরের ব্যথা অনেক সময় পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, আর এর প্রধান কারণ হলো সায়াটিকা নার্ভে চাপ পড়া। মেরুদণ্ডের ডিস্ক সরে গেলে বা ক্ষয় হলে এই নার্ভে চাপ লাগে, যার ফলে ব্যথা কোমর থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত অনুভূত হয়। এ ছাড়াও দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভারী জিনিস তোলা, শরীরচর্চার অভাব এবং বয়সজনিত হাড়ক্ষয়ও এই ব্যথার কারণ হতে পারে।

পায়ে ঝিনঝিন লাগা, অসাড়তা বা দুর্বলতা অনুভব করলে বুঝতে হবে সমস্যাটা একটু গুরুতর হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখিয়ে সঠিক পরীক্ষা করানো ভালো, যাতে আসল কারণ জেনে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া যায়।

কোমরের নিচে ব্যথার কারণ

কোমরের নিচে ব্যথা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যা বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা যায়। এই ব্যথার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভারী জিনিস তোলা, শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়া বা হঠাৎ বেশি পরিশ্রম করা কোমরের নিচের অংশে ব্যথার সাধারণ কারণ হয়ে থাকে । এছাড়াও মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা (যেমন স্লিপ ডিস্ক), সায়াটিকা নার্ভে চাপ পড়া, কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের সমস্যা (নারীদের ক্ষেত্রে), আর্থ্রাইটিস, পেশির টান বা আঘাত, এবং অতিরিক্ত ওজনও কোমরের নিচে ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করার অভ্যাস, সঠিক ব্যায়ামের অভাব এবং মানসিক চাপও এই ব্যথাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি বা অসাড়তা দেখা দেয়, প্রস্রাবে সমস্যা হয়, অথবা জ্বরসহ ব্যথা থাকে, তাহলে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা করা সম্ভব।

কোমরের নার্ভের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

কোমরের নার্ভের সমস্যা এখন অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন। কোমরের নার্ভে চাপ পড়লে ব্যথা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ না থকে এটা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে, একে সায়াটিকা বলা হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই দরকার সঠিক ভঙ্গিতে বসার অভ্যাস করা। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাচলা করা উচিত, যাতে নার্ভের ওপর চাপ কম পড়ে। নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং ও ব্যায়াম, বিশেষ করে পিঠ ও কোমরের পেশি মজবুত করার ব্যায়াম, নার্ভের সমস্যা কমাতে অনেক সাহায্য করে। ভারী জিনিস তোলার সময় হাঁটু ভাঁজ করে সঠিক নিয়মে তোলা জরুরি, কারণ ভুল পদ্ধতিতে জিনিস তুললে নার্ভে বাড়তি চাপ পড়তে পারে।

এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও কোমরের নার্ভ ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হালকা গরম সেঁক দেওয়া বা ফিজিওথেরাপি নেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে যদি ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা অনুভূত হয়, কিংবা প্রস্রাব-পায়খানায় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে না থেকে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ

আরো পড়ুনঃ অল্প বয়সে কোমর ব্যথার কারণ

সায়াটিকা বা কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার প্রতিকার

সায়াটিকার চিকিৎসায় সাধারণত ব্যথা কমানো এবং গতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় সায়াটিকার চিকিৎসা আপনি নিজেই করতে পারবেন।

  • ঠাণ্ডা বা বরফের প্যাকগুলি সায়াটিকার ব্যথা শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে ব্যবহার করলে ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে। দিনে কয়েকবার দিতে হবে, একবারে ২০ মিনিটের জন্য প্রয়োগ করতে হবে।
  • ঠাণ্ডা বা বরফ ব্যবহার করার প্রথম কয়েক দিন পরে, একটি হিটিং প্যাড ব্যবহার করুন। একবারে ২০ মিনিটের জন্য তাপ প্রয়োগ করুন।
  • ফিজিওথেরাপি ব্যায়ামের গতিবিধির মাধ্যম স্নায়ুর উপর চাপ কমিয়ে সায়াটিকা হ্রাস করে।
  • বিশ্রাম, ম্যাসেজ নিলে সায়াটিকার ব্যথা কিছুটা মৃদু হয়ে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা বা হালকা সায়াটিকার সমস্যা ধারণত সময়ের সাথে সাথে চলে যায়। আপনি প্রাথমিক ভাবে যত্ন নেওয়ার পরও যদি ব্যথা না কমে তাহলে একজন ফিজিওথেরাপির পরামর্শ নিন। যদি ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা আরও তীব্র হয় যা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাহলে চিকিৎসা সেবার জন্য যোগাযোগ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

প্রশ্ন: কোমরে ব্যথা হওয়ার কারণ কি?

উত্তর: কোমর ব্যথা বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। কোমর ব্যথার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি দায়ী থাকে দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, ভারী জিনিস তোলার সময় ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব। এছাড়া স্লিপ ডিস্ক, মেরুদণ্ডের হাড়ক্ষয়, আর্থ্রাইটিস, পেশির টান বা আঘাত এবং অতিরিক্ত ওজনও কোমর ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু বা ডিম্বাশয়জনিত সমস্যাও অনেক সময় কোমর ব্যথার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অলস জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং বয়সজনিত পরিবর্তনও এই ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোমর ব্যথা হালকা থাকলে বিশ্রাম ও সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা পায়ে ছড়িয়ে পড়লে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা যায়।

প্রশ্ন: কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ কী?

উত্তর: সাধারণত মেরুদণ্ডের সায়াটিক নার্ভে চাপ পড়ার কারণে ব্যথা কোমর থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। একে সায়াটিকা বলা হয়। মেরুদণ্ডের নিচের অংশে (কোমরের কাছে) সায়াটিক নার্ভ তৈরি হয়ে দুই পায়ের দিকে বিস্তৃত থাকে, তাই যখন এই নার্ভে কোনো কারণে চাপ পড়ে তখন ব্যথা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ না থেকে নিতম্ব, উরু, হাঁটু এমনকি পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত একদিকের পায়ে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়, এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা হাঁটাচলা করলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।

বেশিরভাগ লোকের সায়াটিকা কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেই সমাধান হয়ে যায়। তবে বেশি গুরুতর হলে চিকিৎসা নিলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

ম্যাসেজ থেরাপি সায়াটিকার ব্যথা কমানোর জন্য একটি প্রমাণিত উপায়।

 

লিখেছেন-

ডাঃ সাইফুল ইসলাম, পিটি
বিপিটি ( ঢাবি ), এমপিটি ( অর্থোপেডিকস ) – এন.আই.পি.এস, ইন্ডিয়া
পিজি.সি. ইন আকুপাংচার, ইন্ডিয়া
স্পেশাল ট্রেইন্ড ইন ওজন থেরাপি, ইউ.এস.এ এবং ওজোন ফোরাম, ইন্ডিয়া।
ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট, ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার।

পরামর্শ পেতে – 01760-636324 , 01932-797229 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার

Scroll to Top